বয়স বাড়ার সাথে সাথে অনেকেরই ওজন বেড়ে যাওয়াটা নতুন কিছু নয়। বাড়তি ওজন ঝেড়ে ফেলতে আমরা কমবেশি সবাই চেষ্টা করি। পুরুষদের ক্ষেত্রে সারাদিন অফিসে বসে কাজ করার ফলে খুব সহজেই পেটে মেদ জমে। নারীদের প্রেগন্যান্সি, মেনোপজ-এর কারণে ওজন বাড়ে।
এই দু’টো ক্ষেত্রেই ওজন বাড়ার জন্য একটা খুব জরুরী বিষয় হচ্ছে খাদ্যাভাস। ওজন কমানোর ক্ষেত্রে আশি থেকে নব্বই ভাগই নির্ভর করে আমি কি খাচ্ছি, কখন খাচ্ছি তার উপর। আর বাকিটুকু ব্যায়ামের উপর। আজ আমি আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে মানানসই একটা ডায়েট নিয়ে আলোচনা করবো।
আমেরিকা, জাপান সহ পশ্চিমা বিশ্বে এখন খুব জনপ্রিয় ডায়েট হচ্ছে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। এটাকে ঠিক ডায়েট বলা যায় না। কারণ এটি খাবারের প্ল্যান না। বরং এটিকে আপনি খাবার কখন খাবেন তার প্ল্যান বা খাবার খাওয়ার প্যাটার্ন বলা যায়।
আমরা দশ বারো ঘন্টা ঘুমাই যখন তখন কিন্তু কোনো খাবার না খেলেও চলে। আবার প্রাচীনকালে শিকারী মানুষ খাবার পেলে খেয়েছে আবার না পেলে অভুক্ত থেকেছে। এই অনেক সময় ধরে না থাকা তার জন্য কিন্তু বিশেষ কোনো ব্যাবস্থার দরকার পরে না।
কারণ, আমাদের শরীর এভাবেই ডিজাইন করা। তিন বেলা খাওয়া, তার মাঝে হালকা কিছু খাওয়া এসব নিয়মের প্রচলণ হয়েছে আসলে উনবিংশ শতাব্দীতে। অনেকে বলে বড় বড় ফুড ইন্ডাস্ট্রিগুলো এসব নিয়মের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে।
আবার বলি ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হচ্ছে খাবার খাওয়ার প্যাটার্ণ। অর্থাৎ আপনি কখন খাবেন এবং বাকী সময় না খেয়ে থাকবেন এ দুটোর সমন্বয়। হয়তো ভাবছেন না খেয়ে কিভাবে থাকবো? আসলে প্রথম দুই একদিন অসুবিধা হলেও পরে দেখবেন যে অভ্যাস হয়ে গেছে।
আর রোজা, উপোস – এসব তো আমরা সবাই-ই কম বেশি করি। আমরা যে কিছু সময় পর পর খাই এতে আমাদের ইনসুলিন সিক্রেশনের মাত্রা কখনই কমে না। তাই বার বার খেলে বার বার ক্ষুধা লাগে। ফাস্টিং করার সময় ইনসুলিন কন্ট্রোলে চলে আসে বলে ক্ষুধা কমে যায় আর বার বার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
এখন কিভাবে করবেন ফাস্টিং?
খাবার সময় শুরু করুন আট ঘন্টা পিরিয়ডে। দিনের যে কোনো সময় যখন আপনার সুবিধা হয় বেছে নিন। সকাল দশটায় যদি সকালের খাবার খান তাহলে দিনের শেষ খাবার খাবেন বিকেল ছয়টায়। এরপর বাকি সময় পানি, নরমাল স্যালাইন, দুধ চিনি ছাড়া চা খাওয়া যেতে পারে। এটার এই সময়ের বিভিন্ন প্যাটার্ন আছে। যেমন: ৮/১৬, ৬/১৮, ৪/২০, ২/২২, ওমাড বা ওয়ান মিল এ ডে, একদিন স্বাভাবিক খাবার খেয়ে পরেরদিন পুরোটাই ফাস্টিং করা ইত্যাদি।
এবার বলি এই ফাস্টিং পিরিয়ড বাড়িয়ে নিলে কি হয়?
৩২ থেকে ৪৮ ঘণ্টা ফাস্টিং শুরু করলে শরীরে অটোফ্যাগী শুরু হয়। এই অটোফ্যাগী আবিস্কার করেই জাপানীজ বিজ্ঞানী ইওশিনরি ওশুমি ২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। অটোফ্যাগিতে শরীর নিজের বাড়তি কোষ, খারাপ যতো উপাদান সেগুলো ভেঙে ব্যাবহার করা শুরূ করে।
এর ফলে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস হয়, টিউমার, অস্টিও আর্থারাইটিস, ক্যানডিডার ফলে হওয়া স্কিন ডিজিস সহ বিভিন্ন অসুখ সেড়ে যায়। এটি মোটেও বাড়িয়ে বলা কিছুনা। এটিই ক্যান্সার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় উপায়।