একজন লেখকের যখন বই বাজারে আসে তখন পরিচিত সবাইকে ‘আমার একটা বই আসছে’ কথাটা বললে, সবার প্রতিক্রিয়া কি হয়/কেমন হতে পারে চলুন আমাদের সাথে…
১.
মা – এই জন্যই তো কই পোলায় মাঝে মইদ্দে ঝিম মাইরা বইসা থাকে ক্যা…
২.
বাবা – তা এত বড় পণ্ডিত তুমি কবে হইলা!
৩.
বড় বোন – বই আসুক আর যাই আসুক,কোন ফন্দি আঁটা যাবে না। বলে রাখলাম।
৪.
ছোট ভাই – ফার্স্ট অব অল থ্যাংক ইউ ভেরি মাচ। ব্রো,ইউ আর রকস। অনেকদিন হল মালিহার পিছন পিছন ঘুরছি। পাত্তাই দেয় না। আজ সকালে মালিহাকে বললাম, মালিহা, একুশে বইমেলায় আমার ভাইয়ার একটা বই আসছে। শুনে মালিহা বলল, ওয়াও! ইট’স অ্যামেইজিং! অনেক আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে জীবনে প্রেম করতে হলে কোন লেখকের ছোট ভাইকেই বেছে নেবো। আই লাভ ইউ আরিয়ান।
৫.
বউ (লেখক যদি বিবাহিত হন) – গল্পের নায়িকাদের নাম গুলো আমার ঠিক পছন্দ হলো না। এমনিতে কাহিনী সুন্দর। (ফুঁ দিয়ে বাতি নেভানোর শব্দ)
৬.
প্রেমিকা (লেখক যখন ব্যাচেলর) – বইয়ে অটোগ্রাফ দেবার সময় মেয়ে পাঠকদের ক্ষেত্রে শুধু লিখবা, অল দ্য বেস্ট। ব্যস। মনের মাধুরী মিশিয়ে আবার দুলাইন কবিতা লিখবা না কিন্তু। দেখি,এবার আমার দিকে ভালো করে একটু তাকাও।বাসা থেকে কালো বাউস মাছের কলিজা ভুনা এনেছি। হোস্টেলে কি খাও না খাও…
৭.
বন্ধু মহল – বই আসছে তো কি হইছে!বই লেইখা কি নিজেরে … ছেড়া মনে কর?
৮.
হিংসুটে বন্ধু -ঐসব বই আমরাও ইচ্ছা করলে মাসে ২-৩ টা লিখবার পারি।খালি লিখি না।ঐ মামা কড়া কইরা এক কাপ চা দাওতো… মন মেজাজ ভালো না।
৯.
কাজের বুয়া – মামা, আন্নের বইয়ের পেরাইস কয় টেকা? কইতেছিলাম কি, গ্যাছে পরশু গেছিলাম সমিতিতে। ম্যানেজার ব্যাডারে কইলাম, আমার স্বামী তো অর্ধেক কিস্তি দিয়া মইরা গেছে। আমি কি পুরা ট্যাকাটাই পামু?ম্যানেজার ব্যাডায় কইলো, পাবেন মানে, আপনি পুরো টাকাটাই পাবেন। এহন ব্যাডার কতা ঠিক থাকলি পারে ট্যাকা তুইলা এক খান বই কিনমু। লেহাপড়া জানিনা তাও পাতা খুইলা চাইয়া থাকমু।
১০.
বাদ বাকী লোকজন – মনে হয় প্রেমে ছ্যাকা-ট্যাকা খাইছে। নইলে বই লিখতে যাইব কোন দুঃখে!